হাসিনা সরকার ’৭৩ এর মার্কায় নির্বাচনে জিততে চান
ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা , বুধবার, অক্টোবর ১০, ২০১২


বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মাসের ২৭শে সেপ্টেম্বর
নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বলেছেন “তার সরকারের অধীনেই একমাত্র
নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এজন্য সংবিধান সংশোধন করে ৭২ সালের সংবিধানে ফিরে
গিয়েছেন। ১৯৭২ সালের রচিত সংবিধানের মাধ্যমেই ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নিউইয়র্কে
দেওয়া তাঁর বক্তব্যে সুষ্পষ্টভাবে বর্তমান সরকারের আগাম সংসদ নির্বাচন
কিভাবে সম্পন্ন করতে চায় তা ফুটে উঠেছে।
বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কি রকম হয়েছিল তা তাবৎ দুনিয়ার
মানুষ অবগত আছেন। উনি কি সেই হত্যা সন্ত্রাস ণ্ডম কারচুপি ভরপুর নির্বাচন
আবার করাতে চান? যে নির্বাচনে তৎকালীন বিরোধী দলীয় প্রার্থীদেরকে
মনোনয়নপত্র দাখিলে বাঁধা, হাইজ্যাক করে আটকিয়ে রাখা, নির্বাচনী প্রচার
কার্যে বাঁধা, নির্বাচনী জনসভাণ্ডলোকে সরকারের পেটুয়া বাহিনী দিয়ে নির্মম
সন্ত্রাস চালানো, সর্বপরি প্রশাসনের মাধ্যমে নির্বাচনী ফলাফল পাল্টিয়ে
ফেলাসহ এমন কোন জঘন্য কার্যকলাপ বাকী রাখা হয় নাই যার মাধ্যমে নির্বাচন
যে একটা প্রহসনের নির্বাচন হিসাবেই পরিণত হয়ে ইতিহাসের পাতায় আছে।
আমাদের আজও মনে আছে তৎকালীন বিরোধী দলের প্রার্থী মেজর (অবঃ) এস. এ.
জলিল, (বাকেরগঞ্জ), শাহাজাহান সিরাজ (টাঙ্গাইল), রসিদ ইঞ্জিনিয়ার
(কুমিল্লা), মজম্মিল মাস্টার (সিলেট), মো: শাহজাহান (বণ্ডড়া), এবিএম
শাহজাহান (যশোহর), নুরুল হক মাস্টার (নোয়াখালী) রহমত আলী জিন্নাহ
(চট্টগ্রাম) মোসতাক চৌধুরী (চট্টগ্রাম) বাবু সুরঞ্জিত সেন ণ্ডপ্ত (সিলেট)
ড: আলীম আল রাজী (টাঙ্গাইল) রুহুল আমীন ভূইয়া (নোয়াখালী-ঢাকা), মোজাফ্ফর
আহম্মদসহ অনেক নির্বাচিত প্রার্থীদেরকে পরে দিন পরাজিত ঘোষণা করে সরকার
দলীয় প্রার্থীদেরকে প্রশাসনের মাধ্যমে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছিল।
তৎকালীন ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক পংকজ ভট্টাচার্য তখন সাংবাদিক সম্মেলন
করে বলেছিলেন তার দলের ময়মনসিংহের প্রার্থীসহ অনেক প্রার্থীকে সরকার দলীয়
সন্ত্রাসীরা মনোনয়ন দাখিল করতে দেয়নি। ফরিদপুরের জাসদের প্রার্থীকে
মনোনয়ন পত্র দাখিলের দিনে হাইজ্যাক করে ছাত্রলীগের ণ্ডন্ডা বাহিনী সারা
দিন একটি কলেজের ছাত্রাবাসে আটকিয়ে রেখেছিল যাতে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল
করতে না পারেন।
ঐ নির্বাচনে বিরোধী দল নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত আসনে
জয়লাভ করতে পারবে বলে কেউই মনে করতেন না। ৫০/৬০ জনের একটি বলিষ্ঠ বিরোধী
দল হয়ত গঠন করতে পারত। যার মাধ্যমে আমাদের দেশের গণতন্ত্রের মজবুত ভিত্তি
স্থাপন হওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা ছিল। যে দল ৫০/৬০ জন বিরোধী দলকে সহ্য করতে
পারে নাই তারা কিছাবে একটি অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবে?
হাসিনা সরকার ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছেন তারা প্রশাসন ব্যবস্থা দলীয় করণের
মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থা আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। যে বিচারক স্বপ্রণদিত হয়ে
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এজলাশে বসে অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক কথা
বলেন, সেই বিচার ব্যবস্থায় বিরোধী দল দাঁড়ানোর জায়গা কোথায়? এ সরকারের
আমলেই ঘটে গেল পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম বিডিআর হত্যা জজ্ঞ, প্রকাশ্যে হত্যা করা
হল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বাবুকে হত্যা করা হল মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, ণ্ডম
করা হল বিএনপির বলিষ্ঠ নেতা এম. ইলিয়াস আলী, হাবিবুর রহমান রানাসহ
কমিশনার চৌধুরী আলমসহ শত শত বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীকে। স্টক মার্কেট থেকে
সরকারের লোকরা লক্ষ কোটি টাকা লুন্ঠন করেই ক্ষান্ত হয় নাই, হলমার্ক
কোম্পানী দিয়ে ব্যাংকণ্ডলো থেকে হাজরও কোটি টাকা নির্লজ্জভাবে আত্মসাৎ
করা হল, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার স্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিরোধী
দলীয় নেতার ৪০ বৎসরের বসতবাড়ি থেকে করা হয়েছে উচ্ছেদ। কথায় কথায় বিরোধী
দলের উপর চালানো হয়েছে স্টীম রোলার। লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে পেটুয়া পুলিশ
বাহিনী। র‍্যাবকে দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ণ্ডম করানো হচ্ছে অহরহ।
এ চলমান অবস্থায় বর্তমান সরকারের কাছ থেকে কিভাবে অবাধ, সুষ্ঠ নির্বাচন
জনগন আশা করতে পারে। আওয়ামী লীগের দেশ শাসনের ইতিহাস, হত্যা সন্ত্রাস,
ণ্ডম রাহাজানির ইতিহাস, বাকশাল গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যার ইতিহাস।
তাই প্রধান মন্ত্রীকে বলতে চাই ’৭৩ সালের নির্বাচনের দৃষ্টান্ত না দেখিয়ে
বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য এই মুহূর্তে
নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুন: প্রতিষ্ঠা করে আগামী সাধারন নির্বাচনে
মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়া হোক।