প্রথম আলো
নাজিয়া হোসেন , শনিবার, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০১৩


প্রথম আলোর সাথে আমার পরিচয় অনেকদিনের। পরিচয়টা আরো ঘন হয়ে গেলো হঠাৎ করে একজন কবির হোসেনের সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে। কবির হোসেনকে বাংলাদেশের সকলেই চেনে। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলোক চিত্রশিল্পী এবং সাংবাদিক যার প্রতিভার আলোতে প্রথম আলো অবশ্যই আরো বেশী আলোকিত। বেশ কিছুদিন ধরে ব্যাক্তিগত কারণে বাংলদেশে আছি। সকাল বেলা চায়ের কাপের সাথে যখন প্রথম আলো খুলে বসি তখন পত্রিকার গন্ধটা যেন চায়ের গন্ধকেও ছাপিয়ে যায়। এতো আর হাজার মাইল দূরে কানাডার এক শহরে বসে কস্পিউটারের পাতায় পত্রিকা পড়া নয়। ওখানে আমরা পত্রিকা পড়ি সন্ধ্যায় কারণ তখন সেটার নতুন সংস্করন পাওয়া যায়। ১৪ বছর আগে প্রথম আলো যখন বাংলাদেশে প্রথম প্রকাশিত হলো তখন আমরা যে পত্রিকাটা হাতে পেতাম সেটা হতো বেশ পুরোনো। কিন্তু প্রথম আলো অনলাইন সংস্করণ বের করে যেন আমাদের কাছে চলো এলো অনেক বেশী করে। প্রতিদিন নতুন পত্রিকা পড়তে পারা গেল। প্রথম আলো খবরের ভিন্নতা এবং সত্যতা নিয়ে হাজির হতে লাগলো আমাদের কাছে প্রতিদিন। অন্যান্য পত্রিকাগুলোর আবোল তাবোল খবরে তখন আমরা অনেকটাই বিশ্বাস হারাতে বসেছি। আমাদের কাছে প্রথম আলো পরিচিত হতে লাগলো নানান ভাবে। বাংলাদেশে প্রথম আলোই একমাত্র পত্রিকা যেটা শুধুমাত্র পত্রিকা নয় । এর বাইরেও নানান সামাজিক কাজে জড়িত।

আমি থাকি কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরে। খুব কম না হলেও বাংলাদেশীদের সংখ্যা ভালোই। বাংলাদেশীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি বেশ অনেকদিন ধরেই। মন্ট্রিয়ল থেকে বাংলা ভাষায় ‘ঢাকা পোষ্ট’ নামে একটি পত্রিকা বের করছি। ন্যাশনাল বাংলাদেশী কানাডিয়ান কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন অছে যেটা নানান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত। সেখানে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের বাংলা শেখানোর জন্য তৈরী করেছি ‘বাংলা একাডেমী’ নামে একটি স্কুল। এছাড়া সে দেশের মূলধারার সাথে মিল রেখে গড়েছি একটি রাজনৈতিক দল যেটা গত মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এতো সব কিছু করার পিছনের অনুপ্রেরণা কিন্তু প্রথম আলোরই। ওই যে শ্লোগানটা আছে না ’বদলে যাও , বদলে দাও’। প্রবাসের কঠোর জীবনে থেকেও অনেক কিছু বদলাতে চেয়েছি। কোন কোন জায়গায় হয়তো সফল হয়েছি। আবার কোন কোন জায়গায় হয়তো পারি নি। যখন কোন কিছু করেছি প্রথম আলো আমাদের সে খবর ছাপিয়ে আমাদের উৎসাহ বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক বেশী। বাংলাদেশ সিডরের আঘাতে যখন জর্জরিত প্রবাসে থেকে চেষ্টা করেছি কিছু করার। ইউনিসেফের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহ করে সেটা পাঠিয়েছিলাম প্রথম আলোর মাধ্যমেই। এজন্য প্রথম আলোর কাছে আমি কৃতজ্ঞ ।