চাঁদবদন
মুযুরভাই, রবিবার, মার্চ ২৪, ২০১৩


গল্প চাঁদবদন
মুযুরভাই

মাটির নিচে ব্যাংকার ৷ ঢুকার মুখে ছোট দরজা ৷ দরজার পিছনে কত কী যে ঘঠতে পারে ! গোটা
দৃশ্যপট-টা অজানা এক মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে ৷ শুধু তফাৎ বাহিরের আমি, আর ভেতরের আমি এক
নই ৷ চোখের সামনের দৃষ্টির বাহিরে শুধু চিৎকার-বাঁচার আর্তনাদ শুনা যাচ্ছে ৷
সরাসরি যদি ওদিকে কী ঘঠছে সেটা দেখা যেত, তা হলে হয়তো চোখে পড়বে এমন কিছু দৃশ্য.......
একজন নারী ব্যাংকারের একটি কোনে ম্যাট্রেসের ওপর ছেড়া নোংরা আধা ঢাকা শরীর হাটুমুড়ি দিয়ে
বসে আছে ৷ ম্যাট্রেসের ওপর পাশে একজন পূরুষ সিগারেট ধরাচ্ছে, তার হাতের গ্লাসের হুইস্কি
বাকিটা গলায় ঢেলে দিচ্ছে ৷

পনেরো বছরের কিশোরীর ডান হাত শক্ত করে ধরে নিয়ে আসে চাঁদবদন ৷ বড় হুজুর একটি উঁচু খাটে
তৃপ্ত ভঙ্গিতে নাকডেকে ঘুমাচ্ছেন ৷এই সুযোগে পনেরো বছরের হিন্দু কিশেরীর(হিন্দু মাল) সঙ্গে চাঁদবদন
যৌনতার স্বাদ নিচ্ছে ৷ তার ওপর পাশে উলংগ একজন নারীর শরীরে ওপর শুয়ে আছে একজন পূরুষ,
কানে-কানে মৃদু স্বরে কী কখা বলছে ৷

চাঁদবদন হিন্দু মালের দিকে চেয়ে পিস্তল নাড়াচাড়া করছে ৷ হঠাৎ করে পিস্তলের নলটা মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে
দিল ৷ ফের সেটা বের করে এনে ক্রমশ নামাতে নামাতে যৌনাঙ্গের ওপর ধরল ৷
ম্যাট্রেসের ওপর বসা নারীটি গুটিসুটি মেরে কাপতে লাগল ৷ চোখের দৃষ্টি ঝাপসা ৷ অন্যমনস্ক ভাবে
একে ওপরের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে, চোখ সরিয়ে নিল ৷ মেঝেতে বুলেট পড়ে রয়েছে, পাশে খালি
বোতল, চায়ের কাপ, একটি কাঠের বাক্সের ওপর ধারাল ছুরি ৷

ত্রিশ বছরের চাঁদবদন, বিবাহিত ৷ সাদা চাদরে রক্ত, আর বীর্য মুছে মৃদু হেসে ওঠে ৷ পনেরো বছরের
কিশোরীটি অচেতন ভাবে বিছানার ওপর পড়ে থাকে ৷ আরও ভাল হত যদি একটি গুলি খরচ করে শেষ
করে দিত ৷ শরীরটা কেপে ওঠে, হাটুমুড়ে বসে আছে ৷ বাস্তবে একটি ব্যাংকারের ভেতর কী ঘঠে গেল
বাহিরের লোকজন কেউ জানতে পারল না ৷

চাঁদবদন ওদিকে যেতে যেতে একটু ইতস্তত না করে বড় হুজুরের কানের কাছে এসে বলে ওঠে, হুজুর হিন্দু
মাল আছে ৷ বড় হুজুরের গ্লাসটা ছোট টেবিলে রাখতে যেয়ে পড়ে যাচ্ছিল ৷
-তোমার সাথে কী আগের পরিচয় আছে ?
-না হুজুর, একেবারে ফ্রেশ ৷
আজকের রাতটা ফুল মস্তিতে কাটাতে পারবেন ৷
-নিয়ে এসো ৷
হাত ধরে নিয়ে এল ৷
চাঁদবদন চলে গেল ৷
আমি খাটের কোনায় দাঁড়িয়ে থাকলাম ৷ এমন সময় একটি টেলিফোন এল, একটি পার্টির ইনভাইট ৷
-না আমি আসতে পারব না, স্যরি ৷ আজ রাতটা এখানে মস্তি করে কাটাতে চাই ৷
ইতিমধ্যে তার হাতটা আমার হাটুর ওপর খেলতে শুরু করছে ৷ ঠোটের কোন থেকে জিবটা সামান্য
উকিঝুঁকি মারছিল ৷
শরীরের কোথাও কোন গহনা ছিল না, তবে সেক্স করার সকল উপাদান ছিল ৷হাসতে হাসতে আমাকে
বিছানায় টেনে নিল ৷ উত্তেজনা বেশিক্ষন ধরে রাখার তার কোন মুরোদ ছিল না ৷ ভিখারীর মত
শুধু-শুধু হাত বাঁড়ায় ৷

মাত্র পনেরো হয়েছে আমার ৷ মা ছিলেন গৃহিনী এবং সমাজ সেবিকা, বাবা ছিলেন শিক্ষক ৷ ছোট ভাই-
তেরো, তারপরে বোন- নয় ৷ চাঁদবদন মহিলা হলে ছেনাল বলে ডাকতাম ৷ ছেনাল নামটা তার জন্য
প্রজোয্য ছিল ৷ বড় হুজুর গুনগুন করে গান করছিল ৷ আমাকে বলে একটি গান কর না, ফের কোন
জবাব না দিয়ে বিছানা থেকে নেমে আসলাম ৷

সকাল বেলা ব্যাংকার থেকে বের করে নিয়ে এল ৷ কানে কানে ফিসফিস করে একজন অপরজনকে কী যেন
বলে দিল ৷
বাহিরে রক্তের ছাপ ছাপ চিহ্ন ৷ মনে হল পেইন্টারের পেইন্ট ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ৷ আমার চোখে
কাপড়ের পট্টি বেঁধে দেয়া হল ৷ ব্যাংকারের দরজা বন্ধ হয়ে গেল ৷

কিছু দূর হাটার পর, আর কিছু বুঝতে পারিনি ৷ যখন সেন্স এল তখন প্রায় সন্ধ্যা ৷ আমার হাত দুটি
রক্তে মাখামাখি ৷ আমার চারপাশে অনেক রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে ৷ চোখ তুলে দেখতে পেলাম
সাদা-সাদা চোখ গুলো আমার দিকে চেয়ে রয়েছে ৷ যেন আমাকে প্রশ্ন করছে তাদের মৃত্যুর কারনটা কী ?
আমার দুই উরু রক্ত মাখা ৷ গায়ে যে চাদরটা ছিল, দেখে মনে হল, কেউ যেন রক্তের হোলি খেলায়
মেতেছিল ৷ পাশে পড়ে থাকা প্রাণ নেই, এমন একজনের কাপড় টেনে নিয়ে গায়ে জড়াই ৷ মাথাটা টেনে
ধরলাম ৷ ওদিকে চিৎকার চেচাঁমেচি কানে এল, আবার মৃতদেহের মতো শুয়ে পড়লাম ৷

চাঁদবদন- ছেনালটাকে কিছু বলতে চেয়ে ছিলাম ৷
এমন একটা সত্য ,যেটা কেবল সেই বুঝতে পারবে ৷
সেটা কেউ জানে না ৷
কারও জানার কখাও নয় ৷
সে, ঘাড় নেড়ে সায় দেয় নি ৷
আদালত কক্ষটা দুমড়ে মুছড়ে দলা পাকিয়ে একটি ভয়ংকর রূপ নিল ৷ আর নিমিষের
মধ্যে আমার জীবনটা সেই দুর্বিষহ রাত থেকে বেঁচে উঠা-চোখের সামনে একটা ভয়ংকর
নির্বাক চলচিত্রের মতো ভেসে উঠল ৷ আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না ৷
আজও মনে হয়, ব্যাংকারের দেওয়াল ফেটে বেরিয়ে আসা আর্ত-চিৎকারে আকাশ-বাতাস
খানখান হয়ে যাচ্ছে ৷
১৮/৩/১৩ ph 514 325 4940