মন্ট্রিয়াল শহরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কানাডা শাখার সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল
এইদেশ ডেস্ক-, মঙ্গলবার, মার্চ ১২, ২০১৩


অবিলম্বে সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িকতা বন্ধ এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবীতে মন্ট্রিয়াল শহরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কানাডা শাখার সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল---
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে চলমান সহিংস রাজনৈতিক আন্দোলনের সুযোগে উগ্র মৌলবাদী সন্ত্রাসী জামায়াত-শিবির ও তাঁদের সহযোগী দুর্বৃত্তগণ কর্তৃক সারাদেশে নিরীহ সংখ্যালঘুদের উপর নির্বিচারে হামলা, মা-বোনদের সম্ভ্রমহানী, তাঁদের বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট এবং বাড়িঘর ও মন্দির সমূহে অগ্নিসংযোগ করে ভস্মীভূত করার ঘটনায় মন্ট্রিয়াল শহরে বসবাসরত হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান সম্প্রদায়ের নারীপুরুষ নির্বিশেষে আবালবৃদ্ধ বনিতা সর্বস্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে ডাউন-টাউনের সেন্ট ক্যাথেরিন সড়কে মিছিল করে উচ্চস্বরে শ্লোগান দিয়ে তাঁদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা অবিলম্বে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধানের ব্যবস্থা করা সহ সকল প্রকার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সহিংসতা কঠোর হস্তে দমনের জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান এবং বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে এই ঘৃণ্য কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, বিচার ও শাস্তি দাবী করে সমাবেশ শেষে নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, কানাডা শাখার আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত ১০ মার্চ, ২০১৩ রোববার দুপুর ১২ টার সময় সর্বশ্রী দিপক ধর, কৃষ্ণপদ সেন, পিনাকী ভট্টাচার্য, আনন্দ মোহন দাস, প্রদীপ সরকার দোলন, কৃপেশ পাল, নবেন্দু দাস, স্বপ্না বিশ্বাস, নিতাই দেব, সুকান্ত বড়ুয়া, কুসুম বড়ুয়া, বাপ্পা বড়ুয়া, দেবাশীস ধর, ঝুটন তরফদার, ঝুন্টু নাথ, রতন দত্ত, শিউলী রানী ধর, টিপু বড়ুয়া, বিশ্বজিত দে বাবলু, মৃদুল তালুকদার প্রমুখের নেতৃত্বে কমিউনিটির শত শত লোক স্ত্রী-পুত্র পরিজন সহ অ্যাটওয়াটার মেট্রো সংলগ্ন পার্কে সমবেত হতে থাকেন। সেখান থেকে তাঁরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও দাঙ্গা বন্ধ, অপরাধীদের শাস্তি ইত্যাদি দাবী করে সোচ্চার ধ্বনি তুলে মিছিল সহকারে পদযাত্রা পরিক্রমা শুরু করে গি-কনকরডিয়া মেট্রো সংলগ্ন পার্কে গিয়ে পুনরায় সমবেত হন। সেখানে সংগঠনের অন্যতম সভাপতি শ্রী জয়দত্ত বড়ুয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী সরোজ কুমার দাসের সঞ্চালনায় এক সংক্ষিপ্ত সভায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ সর্বশ্রী দিলীপ কর্মকার, বাবুল চন্দ্র দেব (বাবলা), ঋক ভট্টাচার্য, নিরঞ্জন দাস, মুক্তিযোদ্ধা জনাব মীর হাসান লাকি মিয়া প্রমুখ বক্তৃতা দেন। বক্তারা বলেন যে, জামায়াত-শিবিরের সাম্প্রতিক তান্ডব আমাদের কাছে ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মতই ভয়াবহ বলে মনে হয়। তাঁদের এই অপকর্ম আঞ্চলিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়ে বাংলাদেশকে একটি সন্ত্রাসী রাস্ট্রে পরিনত করার অশনি সংকেত বলে কেউ কেউ অভিমত ব্যক্ত করেন। তাঁরা বলেন যে, বাংলাদেশের সাধারণ সরলপ্রাণ মানুষ ধর্ম ভীরু, তাঁরা মৌলবাদী সন্ত্রাসী মুসলিমদের ন্যায় সাম্প্রদায়িক না। অথচ, মৌলবাদী চক্র বিএনপি’র উপর ভর করে, ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে জামায়াত-শিবিরের কুচক্রী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তাঁরা গত চল্লিশ বছর যাবত এধরনের সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প ছড়ানো ও অপপ্রচারে লিপ্ত ছিল এবং আছে। পাকিস্তানী এজেন্ট জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী চক্র বাংলাদেশকে মিনি পাকিস্তান বানানোর স্বপ্ন দেখছে। যারা, বাংলাদেশের সংবিধান, পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত, স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, ভাষা দিবস, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস মানে না তথা বাংলাদেশের প্রতি তাঁদের কোন আনুগত্যতা নেই এবং স্বীকার করে না। তাই, তাঁদের সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করার জন্য, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসীর ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবীতে সাহাবাগ চত্বরে তরুণ প্রজন্ম অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে যে অহিংস আন্দোলনের সূচনা করেছে তার সাফল্য কামনা করে সমাবেশ থেকে একাত্মতা ঘোষণা করা হয়। সাম্প্রদায়িকতার শিকার হয়ে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং হামলায় আহতের সুচিকিতসার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান। সমাপ্তি ভাষণে সভাপতি শ্রী জয়দত্ত বড়ুয়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হওয়ায় সংখ্যালঘুদের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করে এবং জামায়াত-শিবিরের পরিচালিত নির্যাতন, নৃশংসতা ও তান্ডবের ফলে সৃষ্ট ভীতিপূর্ণ অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নিরসনে বিপন্ন মানবতা উদ্ধারে জাতিসংঘ, আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট, এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং কানাডার পররাস্ট্র মন্ত্রী সহ যে সমস্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা বিবৃতি দিয়েছেন তাঁদের সকলের প্রতি নির্যাতিত মানুষের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে প্রতি রোববার সন্ধ্যায় ৬:০০ টা থেকে ৮:০০ পর্যন্ত দু’ঘন্টার জন্য বাংলাদেশের প্রজন্ম চত্বরে আন্দোলনরতদের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য সমবেত হওয়ার কর্মসূচী ঘোষণা করে মিছিলের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।