বাতাসে লাশের গন্ধ - বাংলাদেশে জাতীয় শোক
কপি, বুধবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৩


আটকে আছেন আমার ভাই কিংবা বোন
সাখাওয়াত হোসেন : মনে হচ্ছে ভেতরে আটকে আছেন আমার ভাই কিংবা বোন। আমরা চাই দ্রুত উদ্ধার করি আটকে পড়া সবাইকে। সাভার বাজার জামতলা বাস স্ট্যান্ডের কাছে নয় তলা ভবন রানা প্লাজার উদ্ধার কাজের সময় গতকাল দুপুরে সেনা বাহিনীর একজন উদ্ধার কর্মী এভাবেই নিজের মনোভাব প্রকাশ করেন। গতকাল সকালে ভয়াবহ ভবন ধসের ঘটনার পর দ্রুত সেনাবাহিনীর উদ্ধার টিম ঘটনা স্থলে পৌঁছালে সাধারণ মানুষ ও আটকে পড়া লোকজনের স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। সাভার সেনানিবাসের ৩ শতাধিক সেনা সদস্য ছাড়াও পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট, র‌্যাব ও বিজিবি সমন্বিতভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। একই সাথে স্থানীয় শত শত লোক উদ্ধার কাজে উদ্ধারকর্মীদের সহযোগিতা করছে।
উদ্ধার কাজের প্রধান সমন্বয়কারী ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী জানিয়েছেন, সর্বশেষ ব্যক্তি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। দুর্ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসে। আমরা ওপর থেকে গর্ত করে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করি। এ কাজে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জনগণের সর্বোচ্চ সহায়তা পাই।
মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কাজে সার্বক্ষণিকভাবে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। তিনি সর্বশেষ ব্যক্তিকে উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা ওনার নির্দেশ মতো একজন ব্যক্তি জীবিত থাকতে এই স্থান ত্যাগ করবো না।
৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য অযথা মানুষকে এখানে ভিড় না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের বিভ্রান্তিকর সংবাদ যাতে পরিবেশিত না হয় সেদিকে সতর্কতা অবলম্ব^নের নির্দেশ দেন।
তিনি জানান, বর্তমানে এখানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ১০টি টিম, সেনাবাহিনীর ১০টি টিম এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১০টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। বিভিন্ন তলায় আটকে পড়া মানুষের জন্য অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। উদ্ধার কাজে সহায়তা করতে স্থানীয় মানুষকে এলাকা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
উদ্ধার কাজে সম্পৃক্ত সেনা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ধ্বংসস্তূপে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ রড ও কংক্রিট সরানোর জন্য পর্যাপ্ত যন্ত্র ও সরঞ্জাম নিয়ে তারা কাজ করছেন। তবে ভেতরে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের জন্য কৌশলগতভাবে কাজ করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল রেকার দিয়ে ধসে পড়া ভবনের দেয়ালের অংশ সরানোর চেষ্টা করছে। তবে ধ্বংসস্তূপ সরানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। ধসে পড়া দেয়ালগুলোর বড় বড় অংশও ভাঙা যাচ্ছে না। এ কারণে ভেতরে ঢুকে বিপুল উদ্যোগে উদ্ধারকাজ শুরু করা যাচ্ছে না। উদ্ধারকাজে জন্য সেনাবাহিনী আরো বড় বড় যন্ত্রপাতি আনছে।
ফায়ার সার্ভিসসহ উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা বলছেন, ব্যাপক ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে। এমন ধ্বংসস্তূপ সরানোর মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি তাদের নেই। এ কারণে উদ্ধার কাজ চালাতে সমস্যা হচ্ছে।