বাংলাদেশ হিন্দু এসোসিয়েশন অব ক্যুইবেক এর বৈশাখ উদযাপন
এইদেশ ডেস্ক-, শুক্রবার, মে ১৭, ২০১৩


বাংলাদেশ হিন্দু এসোসিয়েশন অব
ক্যুইবেক এর বৈশাখ উদযাপন
বাংলাদেশ হিন্দু এসোসিয়েশন অব ক্যুইবেক, মন্ট্রিয়লের উদ্যোগে গতকাল প্লাস্‌ সেন্ট হেনরী'র বিশাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪২০প্রবাসী বাঙালির উপছেপড়া ভীড়ে এবারের নববর্ষউদযাপন ছিলো সম্পূর্নভাবে গতানুগতিক বাংলা নববর্ষ অনুষ্ঠানের ভিন্নরূপ। সাম্প্রতিক বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী জামাত শিবির কতৃক সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করে বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সামনে রেখে বাংলা ভাষা, স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধ এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এবারের হিন্দু এসোসিয়েশনের বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে। ভিন্ন স্বাদেরঅনুষ্ঠানে ছিলো ৫২ ভাষা আন্দোলন থেকে ২০১৩-এর শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণের বাংলাদেশ এবং ধর্মান্ধ মৌলাবাদিদের তান্ডবে অপ্রতিরোধ্য সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে অসাধারণ গীতি আলেখ্য 'জাগো বাংলা'।
৫২ ভাষা আন্দোলনে মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য ভাষা শহীদ সালাম বরকত রফিক জব্বারের আত্মাহুতির দৃশ্য থেকে ১৯৭১-এর জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষন ও স্বাধীনতার ঘোষণা, ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নূরহোসেন আত্মদানসহ শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চের তরুণ প্রজন্মের অহিংস আন্দোলেন মাধ্যমে গণ আন্দোলনের চিত্রও তুলে ধরা হয় গান-নাচ আর নৃত্যনাট্যের এই অসাধারণ অনুষ্ঠানে। সম্পূরর্ন জাগো বাংলা অনুষ্ঠাননি উৎসর্গ করা শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের যোদ্ধাদের প্রতি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সদ্য প্রয়াত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এবং বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম হোতা ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা সদ্যপ্রয়াত বিনোদ বিহারি চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক জানানো হয়। মন্ট্রিয়লের সব বয়সের প্রায় শতাধিক শিল্পীরা এতে অংশ গ্রহন করেন।
এছাড়াও 'মৌলবাদের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে জয় হোক নতুন প্রজন্ম, পরাস্ত হোক স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতক দালাল অপ শক্তি' এই অঙ্গীকারে নাট্য পরিচালক অম্লান দত্তের পরিচালনায় বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূজারিনী কবিতা অবলম্বনে এবং নৃত্য-আলেখ্য 'হে অনন্তপুণ্য' গীতি নাট্যটি অনুষ্ঠিত হয়। গীতি নাট্যে অভিনয় করেন দেবযানী চৌধুরী, পাপড়ি মিত্র, মুক্তা চৌধুরী, সোমা দাস, মিমি চক্রবর্তী, সুজাতা দেব, চায়না চৌধুরী,, পায়েল ধর, প্রমা দে, পূর্বা ধর, শিল্পী হালদার, শ্যামলী দে, ঝুমুর চক্রবর্তী, পূরবী হালদার, ইন্দিরা বিশ্বাস, কমলা দাস, শর্মিষ্ঠা দেব, সোনলী দত্ত, ও মিট্টি। অনুষ্ঠানকে ঘিরে মন্ট্রিয়ল প্রবাসীদের ঢল নেমেছিলো। বাংলার ঐতিহ্যবাহি চিরায়িত রং-বেরঙের পোশাক পড়ে সব বয়সের মানুষই আনন্দবোধ করেছেন এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে। বিভিন্ন রকমের স্টলেও প্রবাসীদের ভীড় ছিলো।সংগঠনটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু এসোসিয়েশনের সভাপতি পিনাকী ভট্টাচার্য এবং সম্পাদক অনুপ চৌধুরী মিঠু। এবারের নববর্ষের সম্পূন্ন রকমারি অনুষ্ঠান ঘিরেই ছিলো বাংলাদেশের বর্তমান চালচিত্র। অনুষ্ঠানটিগুলো সঞ্চালন করেন শর্মীলা ধর ও শক্তিব্রত হালদার মানু।
সংবাদ এবং ছবি কৃতজ্ঞতা : সদেরা সুজন