একটি গোষ্ঠির ক্ষুদ্র স্বার্থ চিন্তায় বেগম খালেদা জিয়া দিশেহারা : কুইবেক আওয়ামীলীগের সংবর্ধনা সভায়- ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি, এম. পি
এইদেশ ডেস্ক-, সোমবার, জুন ১৭, ২০১৩


একটি গোষ্ঠির ক্ষুদ্র স্বার্থ চিন্তায় বেগম খালেদা জিয়া দিশেহারা
কুইবেক আওয়ামীলীগের সংবর্ধনা সভায়- ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি, এম. পি

গত ৮ ই জুন, শনিবার দুপুর বারোটায় কানাডার মন্ট্রিয়ল নগরীর ৪২০৫ ডিকট্রি স্কুল অডিটোরিয়ামে কুইবেক আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব মুন্সী বশির এর সভাপতিত্বে এক সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ থেকে আগত আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ এর সাবেক ছাত্র নেত্রী ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংসদ সদস্যা এডভোকেট ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি এর মন্ট্রিয়লে আগমন উপলক্ষে এ সংবর্ধনা সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী সুইট। আওয়ামীলীগের বিশিষ্ট নেত্রী সৈয়দা সেজী সারওয়ার ও কুইবেক আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এলেন হেলাল এর ব্যবস্থাপনায় এমপির সংবর্ধনা সভায় বিশেষ অতিথির আসনে উপবিষ্ট ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মাসুদুর রহমান, সাবেক সংগ্রামী ছাত্রনেতা দিদার মাহমুদ ভূইয়া ও কুইবেক আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী এম.এ. কাশেম। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতে কুইবেক আওয়ামীলীগের সহ-সভানেত্রী সাজেদা হোসেন এম.পি এডভোকেট বাপ্পিকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। এম.পি এডভোকেট ফজিুলাতুন্নেসা বাপ্পি বক্তব্যে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার পর বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্র প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দুকের নলের মাথায় ÿমতার অপব্যবহার করে একাত্তরের বহুনিন্দিত ঘাতকদের হত্যার সংকট থেকে পরিত্রানের পাশাপাশি বাহাত্তরের দালাল আইন পরিত্যক্ত করে একাত্তরের ঘাতক দালালদের বিচার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে একাত্তর ও পঁচাত্তর এর খুনীরা তাদের হত্যা ও সহিংসতার রাজনীতি বাংলার মাটিতে ধারাবাহিকভাবে কার্যক্ষমতাদির মাত্রা অর্জন করেছে। এম.পি আরো বলেন, একাত্তরের গণহত্যাকারী গোলাম আজম, কাদের মোলস্না, কামারুজ্জামান, আব্দুল আলীম, সাঈদী, নিজামী ও মুজাহিদদের সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন রাষ্ট্রনায়ক মেজর জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত কাজটি করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। যারা বাঙ্গালীর স্বাতন্ত্রবোধকে রোধ করে তাদের উপর নির্যাতন ও হত্যা করেছিল সংখ্যাতীত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্য সহ নানা শ্রেণীর অগণিত নারী-পুরুষকে তাদের নিস্তারের অভিপ্রায়ে বিরোধী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দিশোহারা। একটি গোষ্ঠির স্বার্থাচিন্তায় বেগম খালেদা জিয়া বেপরোয়া হয়ে গেছেন। এবং একাত্তরের কুৎসিত ঘাতকদের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হরতাল, ধর্মঘট ও গণঅবস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। হরতালের নামে বেগম জিয়ার পোষ্য জঙ্গীদের দিয়ে সাধারণ মানুষকে খুন করছে। অবিশ্রান্ত ভাবে অপদার্থ মিথ্যা দ্বারা বেগম জিয়া নিজের কৃতিত্ব প্রচারে অত্যন্ত তৎপর হয়ে উঠেন। রাজাকারদের রক্ষা করার লক্ষ্যে বেগম জিয়ার এহেন কর্মকান্ড জাতির সাথে ভয়ানক প্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছু নয়। যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রসঙ্গে এম.পি বলেন, দেশী বিদেশী নানা ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে মহাজোট সরকার ঘাতক দালালদের বিচার প্রক্রিয়া গতিযুক্ত করে ধরে রেখেছেন এবং ইতিমধ্যে অভিযুক্ত কয়েকজনের বিচারের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘ একচলিস্নশ বছর পর ঘাতকদের উক্ত বিচারের রায় সমগ্র জাতির জন্য অতীব গৌরবের বিষয়। মুক্তিযুদ্ধোত্তর স্বাধীন বাংলাদেশে ঘাতকদের বিচার নিষ্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশবাসীর বাকস্বাধীনতা ও মুল অধিকার বাস্তবায়ন হবে না। বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মাসুদুর রহমান বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের কাংখিত বিচার স্বাধীন দেশের নাগরিকের মৌলিক অধিকার উক্ত বিচার থেকে জনগণ বঞ্চিত হলে জাতির উপর অমঙ্গল বয়ে আসবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আনোয়ারম্নল মজিদ বলেন, বিজাতির করায়ত্ত থেকে আমরা মুক্তি লাভ করতে সক্ষম হয়েছি বটে। কিন্তু ঘাতকদের কবল থেকে আমরা এখনো উদ্ধার হতে পারিনি। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহজাহান ভূঁঞা বলেন, বেগম জিয়া হরতালের নামে দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার বিরক্তিভাজন ও অনিষ্ট সৃষ্টি করছেন। কুইবেক আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মতিন মিঞা জামায়াত ও বিএনপির কড়া সমালোচনা করে বলেন, জামায়াত বিএনপি যৌথ পরিকল্পনা করে সরকারকে পশ্চাৎপদ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ওরা ভেবেছিল হেফাজতের নামে অতর্কিত হামলা করে সরকার হটাতে সক্ষম হবে। সংগ্রামী আওয়ামীলীগ নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুদ সিদ্দীকী বলেন, বেগম জিয়ার আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে রাজাকাররা শক্তি অর্জন করে আজ সরকারী বে-সরকারী মূল্যবান সম্পদ সংহার করছেন এবং সমগ্র দেশজুড়ে ওরা বিশৃঙ্খলা করে বেড়াচ্ছে। কুইবেক আওয়মীলীগ এর মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি বাঙ্গালীর চির শত্রু, তাদের স্বীয় অবস্থান স্থল পাকিস্তানই হওয়া উচিৎ। স্বাধীন দেশে বসবাস করার কোনো স্বত্ব তাদের নেই। আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ ফায়েক বলেন, যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজনীতি করছেন তারাই আজ পবিত্র কোরআন আগুনে পুড়িয়েছে এবং ওরা হিন্দু সম্প্রদায় এর মন্দির ও ঘর-বাড়ি আগুনে দগ্ধ করেছেন। ধর্মকে ব্যবহার করে ওরা আজ রানৈতিক ফায়দা নিচ্ছে উক্ত রাজনৈতিক ভন্ড ধর্মচারীদের কাছ থেকে বাংলার জনগণকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কবির চৌধুরী একাত্তরের ঘাতক দালালদের অভিমুখে নিজের প্রণীত কবিতা অধ্যয়ন করে সুদীর্ঘ বক্তব্য রাখেন।কুইবেক আওয়ামীলীগ এর মহিলা সম্পাদিকা সানজিদা বাবলী বলেন, জঙ্গিদের অর্থ ও অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে সরকারকে সচেতন থাকা প্রয়োজন নতুবা বাংলাদেশ আফগানিস্তান এর মতো নশ্বরে পরিণত হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইউসুব বলেন, হেফাজতে ইসলাম বলতে কিছুনা, এটা হচ্ছে বিএনপি এবং জামাতের একটি অংশ। ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে ওরা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা সৃষ্টি করছে। পাকড়াও কৃত রাজাকারদের মুক্তি করাই ওদের আসল উদ্দেশ্য। আওয়ামী সংগ্রামী নেতা কবি শহিদ রহমান বলেন, মানবতা বিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ যারা করেছেন তারাই মৌলবাদ জঙ্গিদের প্রকৃৃত নায়ক। কাজেই তাদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে শাস্তি কার্যকর ও দ্রুত করা উচিৎ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক বিমলেন্দ রায় বলেন, সাম্প্রদায়িক জঙ্গিত্ত্ব নির্মূল করার এখনই উপযুক্ত সময়। এখন তাদের নির্মূল না করলে ভবিষ্যতে পাকড়ানো অসম্ভব। সাবেক ছাত্রনেতা ও সাংবাদিক রণজিৎ মজুমদার বলেন, জঙ্গি নায়কদের সাথে যারা প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবে জড়িত তাদেরকে আইনের অধীনে এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেওয়া উচিৎ। এবং অবিলম্বে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষেধ করা উচিৎ। সংবর্ধনা সভায় ক্রমান্বয়ে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কুইবেক আওয়ামীলীগ এর সহ-সভাপতি আকতার হোসেন, সহ-সভাপতি আ.শ.ম ইসমাইল, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হাজী আবু ইউনুস সুজন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক, ওসমান হায়দার বাচ্চু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আলী আহম্মদ, কুইবেক আওয়ামীলীগ এর সহ-সভনেত্রী সাজেদা হোসেন, কুইবেক আওয়ামীলীগ এর সহ-সভাপতি মহিবুল হক সোহাগ, ইমিগ্রেশন সম্পাদক মামুন রেজওয়ান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহরিয়ার টিপু, বন ও পরিবেশ সম্পাদক কামরান আলম, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মুজিবর রহমান, আওয়ামীলীগ নেতা জনাব নুরুল আবছার, আওয়ামীলীগ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী জনাব মামুন আহাম্মেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা জাহিদুল আলম, আওয়ামীলীগ নেতা আতাউর রহমান, সাবেক সংগ্রামী ছাত্রনেতা দিদার মাহমুদ ভূইয়া, কুইবেক আওয়ামীলীগ এর সহ-সভাপতি এম, এ কাশেম ও সভাপতি মুন্সী বশীর প্রমুখ। এছাড়া এম.পি ফজিুলাতুন্নেসা বাপ্পির সৌজন্যে কুইবেক আওয়ামীলীগ শাখা আয়োজিত উক্ত সংবর্ধনার সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ মোঃ রফিকুল ইসলাম ও সাবেক ছাত্রনেতা ইলিয়াস হোসেন ভূঞা কুইবেক আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী সকল বক্তা সহ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভাপতির অনুমতি ক্রমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।