বেদান্ত সোসাইট অব মন্ট্রিয়লের উদ্যোগে স্বামী বিবেকাননন্দের সার্ধশত জন্মোৎসব
এইদেশ ডেস্ক-, সোমবার, জুন ২৪, ২০১৩


সদেরা সুজন : বেদান্ত সোসাইট অব মন্ট্রিয়লের উদ্যোগে স্বামী বিবেকাননন্দের (সার্ধশত) ১৫০তম জন্মোৎসব শোভাযাত্রা, পূজা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ধর্মীয় ভাবগম্বীর্যের মাধ্যমে পালন করা হয়। গতকাল ২২ জুন শনিবার মন্ট্রিয়লের নটরডেম স্ট্রীটের ভারতভবন থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। দুর্যোগপূর্ন আবাহাওয়া ম্যারাথন বৃষ্টির মাঝেও নারী-পুরুষ-তরুন-তরুণী এবং শিশুদের বিশাল শোভাযাত্রাটি ছিলো দেখার মতো। বিশেষ করে কানাডার নতুন প্রজন্মের উপস্থিতিই ছিলো উল্ল্যেখযোগ্য। ব্যানার, বিবেকানন্দের বিভিন্ন রকমের ছবি তাঁর অমৃত বাণীর পোস্টারসহ বিশাল শোভাযাত্রাটি ভারতভবন থেকে মন্ট্রিয়লের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে সেন্ট হেনরী স্কুল অডিটোরিয়ামে এসে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিলো বিশেষ পূজা ও ভজন। এতে অংশ গ্রহণ করেন দীপা ভট্টাচার্য্য, নির্মলেন্দু কর মানিক, বিশ্বজিৎ দে বাবলু, এবং অধ্যাপক নন্দলাল দাস।স্বামী বিবেকানন্দের পোশাকের সাজের অনুষ্ঠানটি ছিলো প্রতিযোগিতামূলক চমৎকার। কানাডায় জন্ম নেওয়া নতুন পজন্মের ছেলে মেয়েরা অতি উৎসাহ ও আনন্দ নিয়ে অংশগ্রহণ করে। স্বামী বিবেকানন্দের জীবন এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর একটি অসাধারণ মূল্যবান স্মরণিকা ‘অগ্রযাত্রা’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানের চতুর্থ পর্বে ছিলো বৈদিক স্তোত পাঠ ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে স্বামী বিবেকানন্দের পরিপূর্ণ কর্ম থেকে পাঠ করেন বুদ্ধদেব গুহ। স্বাগত ভাষণ দেন বেদান্ত সোসাইট, মন্ট্রিয়লের সভাপতি স্বামী কৃপাময়ানন্দ। স্বামী বিবেকাননন্দের জীবন-কর্ম এবং বিশ্বায়ন নিয়ে বক্তব্য রাখেন ড. স্পেনচার বউডেল, কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. টি. এস রুকমাণী, বেদান্ত সেন্টার জেনেভা সুইজারল্যান্ডের অধ্যক্ষ স্বামী অমরানন্দ, মঠ কার্যালয়-বেলুর মঠ কোলকাতার ব্যবস্থাপক স্মামী গিরীশানন্দ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বেদান্ত সোসাইটি মন্ট্রিয়লের সম্পাদক শক্তিব্রত হালদার মানু।
অনুষ্ঠানে ষষ্ট পর্বে ছিলো বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কানাডার সুপরিচিত উপস্থাপিকা শর্মিলা ধর ও ইন্দিরা সোয়াম্বরের সঞ্চালনে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিলো সুদেষ্ণা মৌলিকের পরিচালনায় নির্ভীক নরেন নৃত্যনাট্য। সুনির্মল করের রচনায় মুনমুন দেব ও পূর্ণিমা দে’র পরিচালনায় এবং প্রিয়াংকা সাহার নৃত্য পরিচালনায় ছিলো ‘বিবেকানন্দ জাগো আজি’।
এছাড়াও ছিলো রোপামুদ্রা সরকারের পচিালনায় ‘গানে গানে স্বামী বিবেকানন্দ’, স্বর্ণা দে ও মন্দিরা ধর পায়েলের পরিচালনায় ‘গোপীদের কথা’, সুগন্ধা চক্রবর্তী’র পরিচালনায় ছিলো ‘এক পলকে স্বামী বিবেকানন্দ এবং শেষান্তে ছিলো খ্যতিমান নাট্য পরিচালন অম্লান দত্তের পরিচালনা ‘জাগ্রত ভগবান’ নাটক ও রামকৃষ্ণ শরণম। প্রত্যেকটা অনুষ্ঠানই ছিলো দেখার মতো। বিদেশ বিঁভূয়ে এমন বিশাল অনুষ্ঠান সত্যিই প্রসংশার দাবি রাখে |