“১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য সবচেয়ে শোকাবহ দিন ''
প্রেস বিজ্ঞপ্তি, বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৫, ২০১৩


প্রেস বিজ্ঞপ্তি

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ভয়েস ফর একাউন্ট্যাবিলিটি এন্ড গুড গভার্নেন্স ইন বাংলাদেশ – ভিএজি,বি আহ্বায়ক শাহ মোস্তাইন বিল্লাহ আজ এক বিবৃতি প্রদান করেছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেনঃ

“১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য সবচেয়ে শোকাবহ দিন। ১৯৭৫ সনের এই দিনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ও স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ফলে জাতির যে ক্ষতি সাধিত হয় তা অপূরণীয়। এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ব্যক্তি মুজিব ও তার পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করা নয়; একই সাথে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাৎ করা এবং জাতিকে পুনরায় পাকিস্তানী ভাবধারায় পরিচালিত করা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর স্বাধীনতাবিরোধীদেরকে পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রের সর্ব পর্যায়ে পুনর্বাসিত করা হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃতভাবে নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপিত করা হয়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক ফায়দা যারা ভোগ করেছেন তারা বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদেরকে শুধু খুনের দায় থেকে অব্যাহতিই দেন নি; উপরন্তু তাদেরকে সরকারী পদমর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধাও প্রদান করেছেন।

“বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-মুসলিম লীগ এবং রাজাকার-আলবদর গোষ্ঠীকে নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে লালন করার অনিবার্য ফল হিসেবে আজ এই দানবীয় অপশক্তি স্বাধীনতাপ্রেমী জনগোষ্ঠীর সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আবারো ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, শহীদ মিনার ভাংচুর, জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলা ও জাতীয় সঙ্গীতকে অবমাননা করার ধৃষ্ঠতা দেখাচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্যকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে তারা একাত্তরের মতোই ধর্মের বেসাতি ও নাশকতামূলক তৎপরতার মাধ্যমে জাতিকে জিম্মি করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়েছে। অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা স্বাধীনতাবিরোধীদেরকে পুনর্বাসিত করার প্রক্রিয়া চালু করেছে তাদের উত্তরসূরিরাই এখন নানা অছিলায় যুদ্ধাপরাধীদেরকে রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে।

“বঙ্গবন্ধুর ৩৮তম মহাপ্রয়াণ দিবসে সকল দেশপ্রেমিক নাগরিকের ঐক্যবদ্ধ শপথ হোক যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে উচ্ছেদ করে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মত্যাগের পথ ধরে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। আসুন আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই”।