কানাডার মন্ট্রিয়লে রবি অনুরাগীর বিশাল অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র স্মরণ
Sharif Iqbal Chowdhury, শনিবার, অক্টোবর ০৫, ২০১৩


কানাডার মন্ট্রিয়লে রবি অনুরাগীর বিশাল অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র স্মরণ
সদেরা সুজন, কানাডা ব্যুরো ।। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গি। তিনি আমাদের ভাষা শৈলী সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং সারা বিশ্বে বাংলা সাহিত্যকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর সৃষ্টিশীল কর্মে হয়েছেন বিশ্ব কবি। কানাডার মন্ট্রিয়লে ‘রবি অনুরাগী’র উদ্যোগে গতকাল প্লেস সেন্ট হেনরী অডিটোরিয়ামে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানের আয়োজনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তির শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে প্রবাসী বাঙালীদের মিলন মেলায় ‘রবি অনুরাগী’ মন্ট্রিয়াল এর আলোচনা সভায় বক্তরা এ মন্তব্য করেন। মন্ট্রিয়লের জনপ্রিয় ও সুপরিচিত উপস্থাপক শর্মীলা ধর ও শক্তিব্রত হালদার মানুর প্রানবন্ত সঞ্চালনে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন রীতীশ চক্রবর্তী, অধ্যক্ষ ফনীন্দ্র কুমার ভট্টাচার্য ও সাংবাদিক শরীফ ইকবাল চৌধুরী।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তির শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ‘রবি অনুরাগী’ মন্ট্রিয়াল এর আয়োজনে অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে রীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ অর্পন। অনুষ্ঠানের মূল বিষয় নিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রীতীশ চক্রবর্তী। সোমা চৌধুরীর পরিচালনায় ‘আমাদের যাত্রা হলো শুরু’ সঙ্গীতের গানটি পরিবেশনায় মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিশ্ব কবি রবি ঠাকুরের জীবন কর্ম নিয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন সংকলন ‘আলোর স্রোতে’র মোড়ক উন্মোচন করেন সাবেক জন প্রতিনিধি ও প্রাক্তন অধ্যক্ষ ফনীন্দ্র কুমার ভট্টাচার্য। সুদীপ্তা দত্তের পরিচালনায় বরতমানে শান্তি নিকেতনের আশ্রম সঙ্গীত ‘আমাদের শান্তি নিকেতন গানটি দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকাশ দে’র পরিচালনায় ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের কন্ঠে ‘আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে…’ ছিলো খুবই সুন্দর। বিশ্ব কবির কবিতা থেকে আবৃত্তি করে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন শিবানী চক্রবর্তী ও রঞ্জন নিয়োগী।

‘আমি চিনিগো চিনি তোমারে…’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনবধ্য সৃষ্টি সুন্দর গানটি ভারতের শ্রোতানন্দিত আইডল নীলেশ ভট্টাচার্য়ের কন্ঠে ও মোনালিসা ভট্টাচার্য়ের নৃত্যে চমৎকার আবহ সৃষ্টি করেছিলো। সরোদ আবৃত্তিতে অংশ গ্রহন করেন রাজা ভট্টাচার্য ও বনশ্রী ভট্টাচার্য। ‘নির্ঝরের স্বপ্ন ভঙ্গ’ আবৃত্তি নৃত্যে অংশ গ্রহণ করেন আবৃত্তিকার ঝুমুর চক্রবর্তী ও নৃত্যশিল্পী শর্মিষ্টা দে। সুদেষ্ণা হালদার পূর্নার পরিচালনায় গীতাঞ্জলী তাইতো তোমার আনন্দ আমার পর নৃত্যানুষ্ঠানটি ছিলো খুবই সুন্দর। রবি ঠাকুরের গানে গানে বর্ষা মঙ্গল অনুষ্ঠানে পরিচালনায় ছিলেন মুনমুন দেব ও পূর্নিমা দে এবং নৃত্য কোরিওগ্রাফিতে ছিলো তরুন প্রজন্মের খ্যতিনামা শিল্পী পায়েল ধর। রবীন্দ্রনাথের ভাঙ্গাগানের পরিচালনায় ছিলেন তৃপ্তি দাস। মন্ট্রিয়লের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব কৃষ্ণপদ সেনের নির্দেশনায় হাসির প্রহসন ‘রোগীর বন্ধু’ নাটকটি মঞ্চায়িত হয়েছে। সুদেষ্ণা মৌলিকের পরিচালনায় ‘বসন্তে ফুল গাথঁল এবং ‘মাধবী হঠাৎ কোথা হতে এসে অনুষ্ঠান ছিলো চমৎকার। প্রতিটি অনুষ্ঠানে তবলায় ছিরেন শংকর রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিলো নাট্যানুষ্ঠান বাল্মিকী প্রতিভা। উত্তর আমেরিকার খ্যতিমান নাট্য পরিচালক অম্লান দত্তের পরিচালনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনবধ্য সৃষ্টি ‘বাল্মিকী প্রতিভা’ মঞ্চায়ন হয়। যা ছিলো দেখার মতো। প্রবাসে এমন অনুষ্ঠান আয়োজকদেরকে সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। মন্ট্রিয়লের রবি অনুরাগীর রকমারী অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে কানাডায় রবীন্দ্র স্মরণ করা হয়।

Sadera Sujan - Freelance Journalist -