মন্ট্রিয়লের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলী হোসেন খানের পিতা ছোট রাজা আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহেদ খানের ইনন্তেকাল
এইদেশ ডেস্ক-, সোমবার, ডিসেম্বর ০৩, ২০১২


বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজসেবক মন্ট্রিয়লে বাংলাদেশী বৃহৎ রেষ্টুরেন্ট বুফে মহারাজার স্বত্ত্বাধিকারী জনাব আলী হোসেন খানের পিতা-আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহেদ খান, গত ২৮ নভেম্বর ২০১২ ইং বুধবার, দুপুর ১টায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিলস্নাহি ... রাজিউন)। মৃত্যুকালে মরহুমের বয়স হয়েছিল ১০৭ বছর। তার গ্রামের বাড়ী বরগুনা জেলার, বামনা থানার, বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের বড় তালেশসর গ্রামে। মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে ও তিন মেয়ে, স্ত্রী- সকিনা খাতুনসহ বহু নাতী-নাতনী ও গুণগ্রাহী রেখে যান। মরহুমের ছেলেরা হলেন শাহজাহান খান, বেলায়েৎ হোসেন খান, আশরাফ আলী খান ও আলী হোসেন খান। মেয়েরা হলেন ফাতেমা বেগম, রোকেয়া বেগম ও লাইলী বেগম।
সমাজসেবক, দানবীর আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহেদ খানের মৃত্যুতে সমগ্র বামনা থানায় নেমে আসে শোকের ছায়া। তিনি বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের ৫ বৎসর মেম্বার এবং ১৫ বৎসর চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি তালতলী, কলাপাড়ায়, নাওভাঙ্গা হাইস্কুল, নিজ এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও নিজস্ব উদ্যোগে রাস্ত্মা নির্মাণ করেন। অত্র ইউনিয়নে গরীব ও বাস্তুহারাদের প্রায় ২০০ ঘরবাড়ী নির্মাণ করে দেন। বরগুনার নাওভাঙ্গা তালতলীতে নিজ উদ্যোগে গৃহহীনদের পুনর্বাসন করেন।
ন্যায় নীতিতে অটল এলাকার সকলের নয়নমনি ও বিশ্বাসভাজন ব্যক্তি জনাব ওয়াহেদ খান ছিলেন মঠবাড়িয়া থানার ১৭০০০ বিঘা জমির তালুকদারী প্রথার জমিদার আফতাব মাঝি তালুকদারের জামাতা। এলাকায় ন্যায় বিচার ও দুঃখী মানুষের বন্ধু ও সাহায্যকারী জনাব ওয়াহেদ খান সাহেবকে সকলে ছোট রাজা হিসেবে আখ্যায়িত করতেন এবং গর্ব করে ডাকতেন। অটুট বিশ্বাস, সুন্দর মন ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী জনাব খান সাহেব এর নিজস্ব কিছু নিয়ম নীতি ছিল যে, প্রতিদিন ভোর ৬ টায়, দুপুর ১২টায় ও সন্ধ্যা ৬ টায় আহার করতেন এবং তিনি যখন মাছ দিয়ে আহার করতেন তখন তিনি মাছই খেতেন সাথে মাংস কিংবা অন্য কোন তরকারী খেতেন না এবং যদি মাংস খেতেন শুধু সেই দিয়েই আহার করতেন। তিনি অন্য সবাইকেও উপদেশ দিতেন একটি আইটেম দিয়ে আহার করার জন্য। এরই ফলশ্রম্নতিতে ১০৭ বৎসর বয়স পর্যন্ত্ম সুন্দর, সুস্বাস্থ্য ও সবল হয়ে বেঁচেছিলেন। জনাব আলী হোসেন খান ও তার শ্বশুর ড. আব্দুর রব সহেব মরহুমের আত্মার মাগফেরাতের জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

সাবেক ছাত্রনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা মাসুম রহমানের মাতা
আনোয়ারা বেগম এর ইন্ত্মেকাল
মন্ট্রিয়ল : আশির দশকের তুখোর ছাত্রনেতা মন্ট্রিয়লের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাইক্‌স রেস্টুরেন্ট এর সত্ত্বাধিকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুম রহমানের শ্রদ্ধেয় মাতা আনোয়ারা বেগম গত ২৬ নভেম্বর সকাল ৯ টায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্টস্থ তার মেয়ের বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিলস্নাহি ... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বৎসর। মরহুমার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম নূরম্নল ইসলাম মুজিব নগর অস্থায়ী সরকার গঠনের সময় শপথ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন। মরহুমার প্রিয় ছেলে মাসুম রহমান, মাহবুবুর রহমান, মাহমুদুর রহমান এবং চার মেয়ে নার্গিস বেগম, নাসিমা বেগম, মুক্তি বেগম ও ইতি বেগম। উলেস্নখ্য জনাব মাসুম রহমানের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার, মুকসেদপুর থানার, মোসনা ইউনিয়ন, ডুমুরিয়া গ্রামে। বর্তমানে ফরিদপুর সদরের গোয়াল চামোট এ বসবাস করছেন। মন্ট্রিয়ল প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুম রহমান ভারতের মোসল্যান্ডপুর (কল্যাণী)তে প্রশিÿণ গ্রহণের পর ৮ নং সেক্টরে যুদ্ধে অংশে গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের প্রাক্তন কমান্ডার এবং স্যার এ.এফ. রহমান হলের ভিপি ছিলেন। জনাব মাসুম রহমান তার মাতার আত্মার মাগফেরাতের জন্য সকলের প্রতি দোয়াপ্রার্থী।

আশুলিয়া অগ্নিকান্ডে
মন্ট্রিয়লের শোকপ্রকাশ
আশুলিয়ার অগ্নিকান্ডের ঘটনায় শোক ও হতাহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মন্ট্রিয়ল।
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকান্ডে বিপুল হতাহতের হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোক ও হতাহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মন্ট্রিয়ল। সংগঠনটির কার্যকরি কমিটির এক বিশেষ সভায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ভবিষ্যতে যেনো এ জাতীয় মর্মান্তিক অগ্নিকান্ডের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের বিশেষভাবে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।